বড় গরুতে আমিন মোল্যার বড় দুশ্চিন্তা

আপডেট: 03:25:54 18/07/2021



img

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরের দাতিয়াদহ গ্রামের এক সময়ের হতদরিদ্র কৃষক আমিন মোল্যা (৫০)। এখন গরুর খামার করে খানিকটা সচ্ছলতার মুখ দেখেছেন। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে মাথায় হাত উঠেছে এই পরিশ্রমী কৃষকের। খামারে যত্নে লালন করা কুরবানির উপযোগী পাঁচটি গরু বিক্রি করতে পারবেন কি-না তা নিয়ে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তার।
আমিন মোল্যা জানান, দশ বছর আগে তার ছিল অভাবের সংসার। একটু উন্নতির আশায় স্থানীয় একটি হাট থেকে ১৯ হাজার টাকায় কিনেছিলেন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি বকনা বাছুর। নিরলস পরিশ্রম ও পরিচর্যায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এ বকনা বাছুর বাচ্চা দিতে শুরু করে। গড়ে ওঠে তার নিজস্ব খামার। দশ বছরের মাথায় তিনি মালিক হন ৩২টি গরুর। যার মধ্যে ১৪টি গরু বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে আছে ১৮টি। এর মধ্যে ছয়টি গাভী নিয়মিত দুধ দিচ্ছে। যার পরিমাণ প্রতিদিন ৮০ লিটার। এ দুধ বিক্রির টাকায় এখন মোটামুটি সচ্ছলভাবে চলছে তার সংসার।
এছাড়া আগে বিক্রি করা গরু থেকে অর্জিত টাকায় তিনি কাঁচাঘরের স্থলে পাকা ঘর তুলেছেন। কিনেছেন ৬০ শতাংশ জমি।
গরুগুলোকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নামে ডাকেন এগুলোকে। এবারের ঈদে কুরবানির উপযোগী হয়ে ওঠা তার পাঁচটি গরুর একটির নাম ‘ঝুমুর’; ওজন ২৬ মণ। ‘জলহস্তি’ নামেআরেকটির ওজন ২৫ মণ। আর ‘রাজাবাবু’র ওজন ২৪ মণ, ‘বাহাদুরের’ ১৬ মণ এবং ‘টাইগারের’ ওজন ১২ মণ।
আমিন মোল্যার খামার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে থাকা সবগুলো গরুই উন্নত জাতের। পরিবারের সবাই এদের পেছনে শ্রম দেন। গরুগুলোকে তিনি সাধারণত নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস খাওয়ান। এছাড়া ভুসি, খড় ও বিভিন্ন জাতের ফল, শাক সবজিও খাওয়ানো হয়। গরুগুলোকে কখনই কারখানায় উৎপাদিত কোনো খাবার খাওয়াননি বলে দাবি আমিন মোল্যার। যে কারণে এগুলো দেশি জাতের গরুর মতোই বেড়ে উঠছে।
গ্রামবাসী ফুল মিয়া জানান, আমিন মোল্যার এ সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে এখন এ ধরনের খামার তৈরিতে উদ্যোগী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় মানুষ এখন তাকে সফল খামারি হিসেবে চেনেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মাগুরার কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান জানিয়েছেন, এ ধরনের খামারিদের উন্নয়নে তারা নিয়মিত পরামর্শ দেওয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছেন। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে কুরবানির পশু বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা নিরসনে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মাগুরা সদরসহ চার উপজেলায় পাঁচটি অনলাইন হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে; যে প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যে কোনো খামারি তাদের কুরবানির পশু বিক্রির সুযোগ পাবেন।