এক চোখই ভরসা, তাও লাগবে সাড়ে তিন লাখ

আপডেট: 03:06:02 27/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): একটি চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখতে চায় বেনাপোল পোর্ট থানার নারায়ণপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (১৮)। চোখটির আলো ফেরাতে লাগবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। অন্য চোখটি আর কখনো দেখার উপযোগী হবে না।
ডাক্তার বলেছেন, তার দুটি চোখের মধ্যে একটি চোখ আর কখনো ভালো করা সম্ভব নয়। তবে কর্নিয়া সংযোজন করলে একটি চোখ সে ফিরে পাবে। এজন্য খরচ হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবা-ভাইদের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব না।
তরুণ আমিরুল একটি চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখতে চায়। আবারও সংসারের হাল ধরতে চায়।
ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে স্বজনেরা সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন বেনাপোলের বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুলের বন্ধু ব্যাচের সদস্যরা। বাকি টাকার অভাবে চিকিৎসা শুরু করতে পারছেন না আমিরুলের স্বজনেরা।
বেনাপোলের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আহম্মদ আলীর সন্তান আমিরুল। অভাবের সংসারের হাল ধরতে আমিরুল বেছে নিয়েছিল স্যানেটারি মিস্ত্রির কাজ। চলতি বছরের ৯ জুন সকালে বেনাপোল শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রহিমের বাড়িতে কাজ করার সময় তার হাতে থাকা শাবলের আঘাতে পরিত্যক্ত একটি বস্তুতে আঘাত লাগে। তখনই বিস্ফোরিত হয় এশটি বোমা। এই বিস্ফোরণে তার মুখ ও বুক ঝলসে যায়। তাকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে নাভারন ও পরে খুলনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকার শ্যামলীতে বিজ্ঞান ও চক্ষু ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। এক দফা চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছে আমিরুল। কিন্তু সে চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। ডাক্তাররা বলেছেন, একটি চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে একটি চোখে কর্নিয়া লাগালে সে দেখতে পারবে। সে জন্য খরচ হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ২০ দিন পরে ডাক্তার তাকে হাসপাতালে যেতে বলেছেন।
আমিরুলের চোখের অবস্থা দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছে বলে জানান হতাশ স্বজনেরা। পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন তার বড় ভাই আনারুল ইসলাম।
বিকাশ নাম্বার-০১৯৯৪-৭৩৭৪৫০ (পার্সোনাল) বা সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখার হিসাব নম্বর-২৩০৬৯০১০১২৬৩১-তে সাহায্য পাঠানো যাবে। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে (নাম্বার ০১৯৯৪-৭৩৭৪৫০) সচক্ষে অবস্থা দেখতেও পারেন যে কেউ।