'কাঁচামাল বহনে ল্যাগেজ ভ্যান চালু করবে রেলওয়ে'

আপডেট: 07:27:22 09/01/2021



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : উৎপাদিত ফসল দ্রুত ও স্বল্প খরচে রাজধানীতে পৌঁছে দিতে অত্যাধুনিক ল্যাগেজ ভ্যান চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০টি লোকোমেটিভ ইঞ্জিন ও ১২৫টি লাগেজভ্যান কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভ্যানগুলোর মধ্যে ৫০টি ব্রডগেজ ও ৭৫টি মিটার গেজ ট্রেন। আগামী মার্চের মধ্যে এ সেবামূলক সার্ভিসটি চালু করা সম্ভব হবে।
শনিবার (০৯ জানুয়ারি) জেলার বারোবাজার রেলস্টেশনে আয়োজিত কৃষক, ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সাথে কৃষিজাত পরিবহন সংক্রান্ত অংশীজন সভায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। আরো উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহিরকান্তি গুহ, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. জাহাঙ্গীর সিদ্দিক, ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানীসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান আরো বলেন, খুব দ্রুত খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত ডবল লাইনের কাজ শুরু হবে। এসময় রেলের পতিত জমি দখলমুক্ত করা হবে। এ অঞ্চলের ডাবল লাইন চালু হলে কৃষি ও ব্যবসার প্রসার ঘটবে। তখন রেল যোগাযোগ হবে এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যে কারণে খুলনা থেকে ঢাকার পথে কয়েকটি স্টেশনে কাঁচা পণ্যবাহী ল্যাগেজ ভ্যানের স্টপেজ করা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি কৃষক পর্যায়ে বৈঠক করা হবে। সেখান থেকে উৎপানের সাথে সরাসরি জড়িত কৃষকদের মতামত নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, পণ্যবাহী লাগেজের মধ্যে ২৮টি রেফ্রিজারেটেড লাগেজ ভ্যানে মাছ, মাংস, দুধসহ হিমায়িত খাদ্য পরিবহন করা হবে। পণ্য পরিবহনের আগে রেলওয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ করবে। নির্ধারিত এজেন্টে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল কেনার পর তা রেলের বিশেষ ভ্যানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেবে। এসব কাজে কৃষকের কোনো ঝুঁকি থাকবে না বলে উল্লেখ করেন রেলওয়ের মহাপরিচালক  মো. শামছুজ্জামান।
সভায় প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, ঝিনাইদহ ও যশোর অঞ্চল প্রচর সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ফুল, মাছ, মাংস ও দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু পরিবহনজনিত সমস্যার কারণে কৃষকরা নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। তাদের উৎপাদিত ফসলে লাভবান হয় মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের কথা চিন্তা করে রেলওয়েতে এই বিশেষ পণ্যবাহী ভ্যানের ব্যবস্থা করেছেন। গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ে গণচীনের রেল কোম্পানির সাথে ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরই আলোকে আজকে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। পণ্যবাহী এই বিশেষ রেল ভ্যান চালু হলে কৃষকরা নায্য মূল্য পাবেন। সঠিক সময়ে কম মূল্যে রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রামে কৃষিজাত কাঁচাপণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে কৃষকরা লাভনাব হবে এবং কৃষিপণ্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

আরও পড়ুন