অন্যের বারান্দায় রাত কাটে পরিবারটির

আপডেট: 07:23:06 27/05/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : সহায় সম্বল বলতে চারকাঠা জমির ওপরে টিনের দুটো খুপরি; যা ছিল নয়জনের পরিবার নিয়ে দিনমজুর আব্দুল খালেকের (৬৩) মাথা গোঁজার ঠাঁই। সম্প্রতি যশোরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আম্পান সেই ঠাঁইটুকুও ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন অন্যের ঘরের বারান্দায় দিন কাটছে এই পরিবারটির।
আব্দুল খালেক মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ার ভোমরদহ গ্রামের মৃত পাচু মোল্লার ছেলে। চারমাস আগে অসুস্থ হয়ে তার স্ত্রী মারা যান। দুই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিসহ নয়জনের পরিবার এখন তার।
খালেক ও তার দুই ছেলে দিনমজুরি করে সংসার চালান। এক টুকরা ভিটে ছাড়া মাঠে চাষের কোনো জমিও নেই। অতি কষ্টে দিন যায় পরিবারটির। নিত্য সংগ্রাম করে নয়জনের জীবন চললেও তাদের সহযোগিতায় কখনো এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধি বা সমাজপতিদের কেউ। করোনা-কালীন দুর্যোগে কর্মহীন পরিবারটি পায়নি সরকারি একমুঠো চালও।
আব্দুল খালেক বলেন, তিনি লোকের গাছ থেকে নারকেল পেড়ে দেন। দুই ছেলের একজন নির্মাণ শ্রমিক; অন্যজন মিল শ্রমিক। তিনজনে খেটেখুটে কোনো রকম সংসার চলে। চারকাঠা জমির ওপরে টিনের ছোট্ট দুটো খুপরি ছাড়া কিছুই ছিল না। গত বুধবার রাতভর চলা ঝড়ে তার ঘরের চালা দুটো উড়ে গেছে। এছাড়া ঘরের ওপর বড় গাছ পড়ে সব ভেঙেছে। অল্পের জন্য জানে বেঁচে গেছে পরিবারটি।
তিনি বলেন, ‘সেই রাতের ভয়ঙ্কর চিত্র মনে পড়লি এখনো গলা শুকিয়ে আসে। ঘর ভাঙার পর তা আর জোড়া দিতি পারিনি। এখন পাশের বাড়ির আব্দুল হাকিমের বারান্দায় থাকি সবাই। এছাড়া আমার বাড়ি ঢোকার পথও নেই। অন্যের জমি দিয়ে হাঁটাচলা করতি হয়।’
আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, ‘করোনার জন্যি দুই মাসের বেশি তিন বাপ-বেটা বাড়ি বসে আছি। কাজকাম নেই। অনেকে সরকারি কতকিছু পাইছে! আমাগের কেউ একমুঠো চালও দিইনি। যেনে পেট চালানো দায়; সেনে ঘর ঠিক করব কী করে!’
খালেকের ছেলে জহুর আলী বলেন, ঘর পড়ার পর থেকে অনেকে এসে দেখে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউ কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আমার ওয়ার্ডে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমি ৩০ জনের কথা বলেছি। কারও নাম দেওয়া হয়নি। আব্দুল খালেক খুবই গরিব মানুষ। ভিটেটুকু ছাড়া তার কিছুই নেই। তার টিনের ঘরটা ঝড়ে উড়ে গেছে। সে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।’
মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিত বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা জেলা ত্রাণ অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। এখনো কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। ঝড়ে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারাই সহায়তা পাবেন। বরাদ্দ এলে আব্দুল খালেকের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘‘আব্দুল খালেকের ভাঙা ঘরের দুটো ছবি আমি পেয়েছি। ছবিগুলো পিআইও’র কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে আব্দুল খালেক যেন ঘর নির্মাণের জন্য সহায়তা পান সেই ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে পিআইওকে বলা হয়েছে।’’

আরও পড়ুন