অপ্রয়োজনীয় সেই কালভার্টটি এখন

আপডেট: 10:29:16 28/07/2020



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছার হায়াতপুর গ্রামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) প্রকল্পের আওতায় শুকনো খালের (ঘুয়াখালী) মধ্যে নির্মাণ করা অপ্রয়োজনীয় সেই কালভার্টটি এখন খুব বিপদে আছে।
কিছুদিন আগে সুবর্ণভূমিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে যে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। বৃষ্টির পানি কালভার্টের মাত্র দেড় ফুটের ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হতে না পেরে ভরাট করা মাটি ধসিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পানি বের না হতে পেরে ওই মাঠে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে।
কালভার্টটি যে স্থানে করা হয় তার দুই পাশে কোনো রাস্তার অস্তিত্ব ছিল না। গত ১২ জুলাই এসংক্রান্ত একটি স্টোরি পাঠকপ্রিয়  নিউজপোর্টাল  সুবর্ণভূমিতে  প্রকাশ হওয়ার পর কালভার্টটির দুই পাশে মাটি ভরাট করা হয়।
কালভার্টটির মাত্র ২০-২৫ ফুট দূরেই খালটির ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা একটি ব্রিজ রয়েছে। রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। নতুন করে অপ্রয়োজনীয় কালভার্টটি নির্মাণ করা হলেও তার দুই পাশে মাটি ভরাট না করায় এটি স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসেনি।
‘রাস্তাবিহীন এই কালভার্ট স্থানীয়দের কোনো কাজে লাগবে না’ বলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন গ্রামের অধিবাসীরা। পরে দুই পাশে মাটি ভরাট করা হলেও আজ মঙ্গলবার দুপুরের প্রবল বৃষ্টিতে একপাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে ধসে ভেসে যায়।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামে ‘ঘুয়াখালী’ নামে একটি শুকনো খালের ওপর এই কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কালভার্টটি নির্মাণে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল।
পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল সে সময় বলেছিলেন, খালটির দুই পাশেই রাস্তা আছে। কৃষকদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই ওই স্থানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। সে মোতাবেক উপজেলা পরিষদ থেকে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সামান্য দূরেই আরেকটি ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও খালের মধ্যে এতো কম প্রস্থের কালভার্ট নির্মাণ কেন? আর দুই পাশে কোথাও মাটি ভরাট করা হয়নি কেন?- এসব প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, এখন কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। পরে মাটি ভরাট করা হবে। তখন কৃষকদের উপকারে আসবে।
তবে সরিজমিনে সেখানে কোনো রাস্তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই খবর প্রকাশের পর দুই পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিন পার না হতেই বৃষ্টির পানির তোড়ে কালভার্টের পাশের মাটি ধসে ভেসে গেছে।

আরও পড়ুন