অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে মণিরামপুরে ভোট শনিবার

আপডেট: 01:35:49 28/01/2021



img
img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : দুদিন পর  যশোরের মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন। এরইমধ্যে প্রার্থীদের প্রচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পৌরএলাকা। তীব্রশীত উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। রায় নিজেদের পক্ষে রাখতে ভোটারদের দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীসহ তার অনুসারীরা।
প্রচারণা উৎসবমুখর হলেও এবারের পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে মেয়র প্রার্থীদের। অভিযোগ তুলে দফায় দফায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন তারা।
ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ ইকবাল দাবি করছেন, তার পোস্টার ছিড়ে দিচ্ছেন নৌকার কর্মীরা। তার প্রচার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে যাওয়ায় অনেককে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী তার কয়েকজন কর্মীকে মারপিটের অভিযোগ তুলেছেন দুইবারের নির্বাচিত এই মেয়র প্রার্থী।
শনিবারের (৩০ জানুয়ারি) মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শহীদ ইকবাল বলেন, 'নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। প্রতিক বরাদ্দের প্রথম দিনেই আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। আমাকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ভোটারদের মাঠে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। আমি বারবার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।' সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার এবং ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়নের দাবি জানিয়েছেন এই প্রার্থী।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, ৩০ তারিখের ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেউলিয়াপনা ও গতানুগতিক বক্তব্য দিয়ে বিএনপি প্রার্থী তাদের রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা বিনষ্টের লক্ষ্যে ও ২০১৩-১৪ সালে মণিরামপুরে নিজেদের তাণ্ডব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চাপা দিতে পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি এমন ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আমার তিন নির্বাচনী কর্মীকে মারপিট করে জখম করেছে নাশকতা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে ওইদিন রাতে পৌরশহরে মিছিল বের করে ধানের শীষের প্রার্থী নিজেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
মেয়র প্রার্থীদের এমন অভিযোগের মধ্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।
তবে, মেয়র প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও এখনো পর্যন্ত কাউন্সিলর পদের কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন বা প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ব্যাপারে সরাসরি কোনো অভিযোগ তোলেননি।
এদিকে, পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিকে তেমন প্রচার প্রচারণা বা গণসংযোগ করতে দেখা না গেলেও নৌকাকে জয়ী করতে একাট্টা মণিরামপুর আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে দলের নেতাকর্মীরা একযোগে মাহমুদুল হাসানের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দিনরাত তারা ভোটারদের দ্বারে ঘুরছেন; করছেন সভাসমাবেশ। ভেদাভেদ ভুলে ইতিমধ্যে নৌকার হয়ে কাজ করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য টিপু সুলতানের ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হুমায়ুন সুলতান সাদাব, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার প্রমুখ। এমনকী এবার পৌর নির্বাচনে নৌকা চেয়ে না পাওয়া মনোনয়ন বঞ্চিতরাও কাজ করছেন মাহমুদুল হাসানের পক্ষে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা এসে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে লড়ছেন তিনজন-কাজী মাহমুদুল হাসান (নৌকা), অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন (ধানের শীষ) ও আবু তালেব (হাতপাখা)। এছাড়া পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নয়টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২১ হাজার ৯৬৫। পুরুষ ভোটার দশ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ১২৯ জন। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।
মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, 'নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে এখনো কোনো প্রার্থী আমাকে কিছু জানাননি।' নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন