অভয়নগরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতঘর নির্মাণে অনিয়ম

আপডেট: 10:27:31 06/03/2021



img

রবিউল ইসলাম, অভয়নগর (যশোর): অভয়নগরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গৃহহীনদের বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। উপকারভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে টাকা। শুরু হয়নি চার ইউনিয়নের ছয়টি বসতঘর নির্মাণের কাজ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গৃহহীনদের বসতঘর নির্মাণে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ২০টি বসতঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৫ লাখ টাকা। উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের তিনটি, সুন্দলী ইউনিয়নে চারটি, চলিশিয়া ইউনিয়নে চারটি এবং পায়রা ইউনিয়নে তিনটি বসতঘরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ১৪টির মধ্যে ১১টি বসতঘরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। শ্রীধরপুর ইউনিয়নে একটি, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে একটি এবং শুভরাঢ়া ও সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে দুটি করে মোট ছয়টি ঘরের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। ঘরপ্রতি নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা।  
সরেজমিন চলিশিয়া ইউনিয়নের ঋষিপল্লীতে দেখা যায়, শ্রীমতি রানী দাস, চিত্তরঞ্জন দাস ও মিরারানী দাসের বসতঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। এ ব্যাপারে মীরারানী দাস জানান, তা ঘর নির্মাণে ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট। ইট ও মাটি ভরাটের জন্য দিতে হয়েছে তিন হাজার টাকা এবং প্রতিদিন মিস্ত্রিদের নাস্তা করার জন্য দিতে হয় ৫০ টাকা। ভিত না করে ঘাসের ওপর গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। যা কয়েক দিন পর ভেঙে পড়েছে।
উপকারভোগী শ্রীমতি রানী দাস ও চিত্তরঞ্জন দাস একই অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪টি বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খান। কাজ শেষের আগে ওই ১৪টি ঘরের বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ইট, বালি ও সিমেন্ট নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিমেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, 'ঝামেলা এড়াতে  ইউএনও নাজমুল হুসেইন খানকে ৩০০ বস্তা সিমেন্ট ফ্রি দিয়েছি। সেই সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতঘর নির্মাণকাজে।'
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, অনিয়মের অভিযোগে ১১টি ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। খুব শিগগির নির্মাণ কাজ শুরু হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপর চারটি ইউনিয়নের ছয়টি বসতঘর নির্মাণের কাজও শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান বলেন, 'আমি নতুন এসেছি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে যেসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে তা পুনঃনির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বসতঘরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না।'
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর জানান, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।

আরও পড়ুন