অভয়নগরে শ্রমিক ধর্ষণের কথা ‘স্বীকার’ আসামির

আপডেট: 09:07:04 21/09/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : অভয়নগরে নারী হোটেল শ্রমিককে ধর্ষণ মামলায় এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেকজন ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসু জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত সূত্র এই তথ্য দিয়েছে।
আসামি জাহিদুল ইসলাম অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে এবং নূর ইসলাম একই গ্রামের কায়সেদ আলী সরদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে তিনি এক ভাতের হোটেলের নারী শ্রমিককে ‘কথা আছে’ বলে আমডাঙ্গা মাঠের মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর ওই শ্রমিককে সেখানে রেখে চলে যান জাহিদুল।
নূর ইসলাম বলেছেন, তিনি মুদি দোকানের ব্যবসা করেন। রাত সাড়ে দশটায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর শুনতে পান জাহিদুলের সঙ্গে এক নারী শ্রমিকের ধস্তাধস্তি হয়েছে। সেখানে নূর ইসলাম ও আসাদ নামে আরেকজনকে ডেকে নেন জাহিদুল। পরে কী হয়েছে তিনি জানেন না।
এদিকে, থানায় রুজু করা এজাহারে বলা হয়, ওই নারী শ্রমিকের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার একটি গ্রামে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। নওয়াপাড়ার ভাঙাগেটে আতিয়ারের ভাতের হোটেলে কাজ করতেন তিনি। আসামি জাহিদুল ওই হোটেল ভাড়া নিয়ে চালাবেন বলে নারী শ্রমিককে তার সঙ্গে সন্ধ্যার পরে দেখা করতে বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে জাহিদুলের সঙ্গে দেখা হলে তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হলে জোর করে ধরে মাঠের মধ্যে নিয়ে চড়থাপ্পড় মেরে ধর্ষণ করেন জাহিদুল। ধর্ষণকালে আসামি নূর ইসলাম ও আসাদ পাহারা দেন। জাহিদুলের পর নূর ইসলাম তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যান।
বাড়ি ফেরার পর ধর্ষিতার শরীরে জ্বর আসে। সুস্থ হয়ে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর গভিররাতে তিনি অভয়নগর থানায় মামলা করেন।
ওইদিন রাতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানা পুলিশের পরিদর্শক মিলনকুমার মণ্ডল আসামি জাহিদুল ও নূর ইসলামকে গ্রেফতার করেন। সোমবার যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের সোপর্দ করে পুলিশ।

আরও পড়ুন