অমল সেন স্মরণমেলায় থাকছেন দু’পক্ষের নেতারা

আপডেট: 07:04:05 16/01/2020



img

স্টাফ রিপোর্টারনড়াইল প্রতিনিধি : দিকপাল কমিউনিস্ট নেতা অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার। বরাবরের মতো এবারো ‘অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি’ দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তবে এবার ওয়ার্কার্স পার্টি বিভক্ত হওয়ায় তার রেশ পড়ছে অনুষ্ঠানের ওপরও। রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি প্রথম দিন আর ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদীর নেতারা দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে থাকবেন।
তেভাগা আন্দোলনের শীর্ষনেতা অমল সেন শেষ জীবনে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন। সঙ্গত কারণে ‘অমল সেন স্মৃতিরক্ষা কমিটি’তেও এই দলের প্রাধান্য রয়েছে।
এবারের আয়োজনে থাকছে অমল সেনের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও হবে।
প্রথম দিনের আলোচনা সভায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, নূর আহমেদ বকুল, মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ।
এদিনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দস্য নজরুল ইসলাম।
ওয়ার্কার্স পার্টি যশোর জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক সবদুল হোসেন খান স্থানীয় অধিবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভা হবে বিকেল তিনটায়। এদিনের সভায় ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদীর সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তবে প্রথম দিন শুক্রবার বেলা ১২টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী নেতারাও থাকছেন বলে দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ সুবর্ণভূমিকে জানিয়েছেন।
স্মৃতি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আবৃতি, গণসঙ্গীত, গণনাটক ও গণসংগ্রামভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শনী হবে। এছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে লোকজ মেলা।

জীবনী-সংক্ষেপ
অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান। নবম শ্রেণিতে পড়াকালে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন তিনি। দৌলতপুর বিএল কলেজে গণিতশাস্ত্রে অনার্স পড়াকালে মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নড়াইলে ফিরে এসে কৃষক আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। পারিবারিক জমিদারি, অর্থ-সম্পত্তি, বিত্ত-বৈভব তাকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি।
শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি জীবনকে উৎসর্গ করেন। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই তাকে কারান্তরালে কাটাতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ অনুসারীরা তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে মুক্ত করেন। জীবনের শেষলগ্ন পর্যন্ত তিনি গরিব কৃষকের ঘরে অবস্থান করে সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে ছিলেন। ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই অকৃতদার বিপ্লবী নেতা। তাকে সমাহিত করা হয় যশোর-নড়াইল জেলার সীমান্তগ্রাম বাঘারপাড়ার বাঁকড়িতে।

আরও পড়ুন