অর্ধশত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে

আপডেট: 10:23:08 21/10/2016



img

খুলনা অফিস : উপকূলীয় জনপদ কয়রায় নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় অর্ধশত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহারাজপুরের দশালিয়া খেয়াঘাট-সংলগ্ন বেড়িবাঁধের তিন-চতুর্থাংশ কপোতাক্ষ নদে বিলীন হয়ে গেছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত এক সপ্তাহ ধরে লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন।
পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দশালিয়া বেড়িবাঁধ রক্ষায় ভেতর দিয়ে ৬৫০ ফুট রিং বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, ‘১৩-১৪/২ পোল্ডারের দশালিয়া বেড়িবাঁধ রক্ষায় ইতিপূর্বে কয়েকবার মাটি দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। কিন্তু তীব্র ভাঙনে সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’
এজন্য স্থায়ী ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় ড্যাম্পিংসহ ব্লক বসানোর দাবি করেন তিনি।
কয়রা সদরের হরিণখোলা বেড়িবাঁধের প্রায় দুই হাজার ফুট জায়গায় ফাটল ধরে গত ১৮ অক্টোবর হঠাৎ কপোতাক্ষ নদে দেবে গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুইদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে মাটি ফেলে পানি আটকানোর জোর চেষ্টা চলছে।
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. খায়রুল আলম বলেন, ‘হরিণখোলা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ধরায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ মিললে ঠিকাদার নিযুক্ত করে কাজ শুরু করা হবে।’
এদিকে, ১৭ অক্টোবর পাউবোর ১৩-১৪/১ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদী-সংলগ্ন আংটিহারা বেড়িবাঁধের ৬০০ ফুটের বেশি নদীগর্ভে ধসে গেছে।
দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামছুর রহমান জানান, আংটিহারা বেড়িবাঁধের ভাঙন ঠেকাতে গত ছয় মাসে চারবার মাটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই বাঁধ রক্ষা করা যাচ্ছে না। চরামুখা, পাতাখালি, দক্ষিণ বেদকাশি, মাটিয়াভাঙা, জোড়শিং বেড়িবাঁধের ২৭ কিলোমিটার জায়গায় নদী ভাঙন প্রকট হওয়ায় সেখানকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বেড়িবাঁধ রক্ষায় ড্যাম্পিংসহ প্লেসিং ব্লক বসানোর দাবি জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন