সাতক্ষীরায় আমের মুকুলে দোল খাচ্ছে চাষির ভাগ্য!

আপডেট: 01:54:39 03/03/2021



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সেই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে।
তবে, গতবছর প্রথম থেকেই বৈরি আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন আমচাষিরা। এরপর করোনা পরিস্থতিতে যানবাহনের অভাবে পাইকাররা না থাকায় আমের বাজারজাতকরণ নিয়েও যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন। মে মাসের শেষে মৌসুম শুরু হবার আগে আমের বাজারজাতকরণে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপে আমচাষিরা যখন আবার আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন, সেই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে পড়ে আমের বাগান।
করোনার লকডাউনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ঝড়ে ঝরে পড়া আম বিক্রি করার কোনো জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীদের শেষ আশাটুকুও স্লান হয়ে যায়। তাছাড়াও গত মৌসুমে জেলার আম বাগানের অধিকাংশেই আশানুরূপ আমের মুকুলের দেখা মেলেনি। তার উপর করোনা ভাইরাসের জন্য দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে আম রপ্তানি করতে না পেরে চিন্তিত ছিলেন চাষিরা। আর আম্পানের আঘাতে জেলার ২ হাজার ২৭ হেক্টর জমির ১৬ হাজার ২৯৬ টন আম নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিকভাবে সেসময় আমচাষিরা ৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন।
তবে, গত মৌসুমের তুলনায় এবছর জেলার আম বাগানগুলোতে দ্বিগুণ মুকুল এসেছে। আমের এই মুকুল চাষিদের আশার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাই নতুন করে বাগান পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত জেলার ১৩ হাজার ১০০ চাষি।
গত বছরের চেয়ে এবছর ৫হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে বলে জানাচ্ছে কৃষিবিভাগ। এবার জেলায় ৪হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। গড় ৬০টাকা কেজি ধরে ৪০হাজার মেট্রিকটন আমের বাজার মূল্য ২৪০ কোটি টাকা।
সাতক্ষীরা সদরের মিজানুর রহমান, অজিত দাস, তালা উপজেলার সফল চাষি আসাদুজ্জামানসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠপর্যায়ের চাষিরা জানান, মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো। জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছে মুকুল শোভা পাচ্ছে। এরমধ্যে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ফজলি, আশ্বিনা, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে।
কৃষিবিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছেন জানিয়ে চাষিরা জানান, গত মৌসুমে করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও চলতি মৌসুমে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দোল খাচ্ছে তাদের ভাগ্য।
গতবছরের চেয়ে এবছর ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হওয়ার কারণ সমন্ধে ঘূর্ণিঝড় আম্পানকে দোষারোপ করছে সাতক্ষীরা কৃষিবিভাগ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সব্যসাচী বলেন, গতবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত বাগানগুলোর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। একারণে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে পাঁচ হেক্টর জমিতে আম চাষ কম হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এবার সাতক্ষীরা জেলার ৪হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হচ্ছে। যা থেকে ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। ইতোমধ্যেই আমের মুকুল আসছে, এইসময়ে সাধারণত হুপার পোকার আক্রমণ করে। যার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বিচিং পদ্ধতিতে সেচ না দেওয়ার কারণে মুকুল শুকিয়ে ঝড়ে পড়ে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে ও ফলন ভালো পেতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমচাষিদের সবধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন