অস্ত্রের মুখে ঘেরের মাছ ছিনতাই, মারপিটের অভিযোগ

আপডেট: 08:11:54 26/02/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মণিরামপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি ঘের থেকে পাঁচটি নৌকাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হচ্ছে। 
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৫-৩০ জনের একদল দুর্বৃত্ত ঘেরমালিক বলরাম রায় ও কর্মচারী সঞ্জিতকুমারকে মারপিট করে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মণিরামপুর উপজেলার হাজিরহাট বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঘেরমালিক বলরাম রায়। ওইসময় হরিদাসকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিপদভঞ্জন পাড়েসহ ঘেরের জমিমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলরাম রায় বলেন, দশ বছরের চুক্তিতে ৪৭২ জনের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে কেশবপুরের আব্দুস সামাদের সাথে অংশীদারী ভিত্তিতে বিলবোকড়ে মাছের ঘের করা হয়। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক গত সাত বছর ঘেরে মাছের চাষ করে কোনো ভাগ দেওয়া হয়নি তাকে। বিষয়টি জমিমালিকরা জানতে পেরে আব্দুস সামাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায় গত বছর (বাকি তিন বছরের জন্য) বলরাম রায়ের নামে ঘেরের চুক্তিনামা (ডিড) করে দেন আব্দুস সামাদ। সে মোতাবেক জমিদাতাদের লিজের বকেয়া পাওনা বুঝে দেন বলরাম। আগামী মাসের ৫ তারিখে চলতি বছরের লিজের টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য তিনি বৃহস্পতিবার ঘেরের মাছ ধরান। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার পোড়াডাঙ্গা গ্রামের মানিক দত্তের ছেলে বৈদ্যনাথ, কুচলিয়া গ্রামের গৌর মল্লিকের ছেলে গোবিন্দ মল্লিক, বালিদাহ গ্রামের আনিছুর রহমান ও অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী গ্রামের মৃত হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে অশোক বিশ্বাসসহ ২৫-৩০ জন দুর্বৃত্ত ঘেরে যায়। তারা বলরাম রায় ও তার কর্মচারী সঞ্জিতকুমারকে মারপিট করে অস্ত্রের মুখে পাঁচটি নৌকাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ছিনিয়ে নিয়ে যান।
বলরাম রায় জানান, এ ঘটনায় তিনি মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। জড়িতদের আটকের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান বিপদভঞ্জন পাড়ে বলেন, 'আমি ঘেরের জমিমালিকদের লিজের টাকার জামিনদার হই। ইতোমধ্যে বকেয়া পাওনা আমার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি বছরের টাকা দেওয়ার আগেই প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।' তিনিও জড়িতদের আটকের পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উপস্থিত রামপদ রায়, অনিমেষ মল্লিক, উজ্জ্বল বিশ্বাস, উপেন্দ্রনাথ রায়সহ একাধিক জমিজমি মালিক জানান, তারা বলরামকে দেখেই জমি লিজ দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে বিগত বছরের বকেয়া টাকাও তারা বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল মাছ ছিনতাই করে তাকে পথে বসানোর চেষ্টায় লিপ্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সোয়েব হোসেন জানান, ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি প্রশমন করা হয়েছে। আগামী ২ মার্চ উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘের নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের খবর পেয়ে আজ বিকেল তিনটার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এরপর তিনি উভয়পক্ষকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধ করেন এবং বিবদমান দুই পক্ষের কথা শোনার জন্য আগামী ২ মার্চ সকাল দশটায় ঘেরের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আসতে বলেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন